অর্থনীতির বিপর্যয়। মোদী সরকারের পদক্ষেপে বাঁচবে না দেশ

তীর্থ রায়

মাত্র পাঁচবছর সরকার চালিয়ে দেশকে এক অভূতপূর্ব দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন এই আর্থিক মন্দা তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তারই তৈরী নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার। তিনি কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, “নোটবন্দি ও পরিকাঠামো তৈরি না করেই জিএসটি চালুর ফলে অর্থনীতিতে বিপুল নগদের সংকট দেখা গ্রিয়েছে। যার জেরে এই ভয়াবহ মন্দার মুখে দেশ।” নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, “গত ৭০ বছরে দেশে এইরকম পরিস্থিতি কখনও তৈরি হয়নি।” নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান এই কথা প্রকাশ্যে বলার সঙ্গে সঙ্গে তোলপাড় পড়ে যায় নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লকে । শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে অবশ্য তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এই কথা বলতে চাননি। সংবাদমাধাম তার কথার ভূল ব্যাখ্যা দিয়েছে। যদি আমরা ধরেও নিই যে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান মুখ ফসকে কথাগুলি বলেছেন, তাতেও স্পষ্ট যে সত্য কথাটি তিনি বলে ফেলেছেন।

 তিন বছর আগে নরেন্দ্র মোদি যেদিন আচমকাই টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ঘোষণা করলেন, দেশের সব ৫০০ ও হাজার টাকার নোট রাত থেকেই বাতিল হয়ে যাচ্ছে, সেদিনই বোঝা গিয়েছিল এক ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে পড়তে চলেছে দেশ। এই কথাটা ওই রাতেই সাহস করে বলে দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে দেশ-বিদেশের অর্থনীতিবিদরাও একই কথা বলেন। মোদি যে রাতে ৫০০ ও হাজার টাকার নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন তখন দেশে চালু ৮৬ শতাংশ মুদ্রাই ছিল ৫০০ ও হাজার টাকার নোটে। রাতারাতি ভারতের মতো একটা বিশাল অর্থনীতির ৮৬ শতাংশ মুদ্রা বাতিল হয়ে গেলে যা হয়, পরের দিন থেকে দেশে সেটাই ঘটতে শুরু করেছিল। নগদের অভাবে রাতারাতি মুখ থুবড়ে পড়েছিল আমাদের কৃষি ও বিশাল অসংগঠিত ক্ষেত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হয়তো এটা ধারণাতেই ছিল না যে দেশের সিংহভাগ মানুষ তাদের জীবিকা অর্জন করেন কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকেই। এই দুই ক্ষেত্রেই সমস্ত কারবার হয় নগদে। ফলে যে দুই ক্ষেত্রে দেশের সিংহভাগ মানুষ নিয়োজিত সেখানে অর্থনীতির চাকাটাই কিছুদিনের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল। কাজ হারালেন কোটি কোটি মানুষ। নোটবন্দির সেই ক্ষত আমরা এখনও সারিয়ে তুলতে পারিনি। বরং বলা যেতে পারে ক্ষত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নোট বন্দির ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই নরেন্ত্র মোদি চালু করে দিলেন জিএসটি। পণ্য ও পরিষেবা কর তথা জিএসটি নিয়ে প্রস্তুতি অনেকদিন ধরে চলছিল! কিন্তু বিক্রয় করের বদলে এই নতুন পরোক্ষ কর ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে যে পরিকাঠামো তৈরীর প্রয়োজন ছিল সেটা না করেই তা লাগু করা হল মধ্যরাতে সংসদের অধিবেশন ডেকে । গত পাঁচ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতাই হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সব সময় রাজনৈতিক চমক দিতে পছন্দ করেন। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে সেই পদক্ষেপের পরিণাম কী হতপারে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কখনও ভাবিত নন। পরিণাম বিচার বিবেচনা করার বদলে তিনি বেশি মনোযোগী ঘটনাটিকে কীভাবে মিডিয়ার প্রচারের আলোয় এনে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যেতে পারে তার দিকে।

জিএসটি চালুর ক্ষেত্রেও মোদি সেই রাজনীতিতেই বেশি গুরুত্ব আরোপ করলেন। পরিকাঠামো ছাড়া জিএসটি লঞ্চ করার পরিণতি হল, এক বিশাল বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে গেলেন আমাদের দেশের ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। জিএসটি ব্যবস্থায় ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট ফেরত পাওয়ার জন্য যে পরিকাঠামো গড়া দরকার সেটা আজও গড়ে ওঠেনি। ফলে ব্যবসারীরা ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট ফেরত পাচ্ছেন না। যার জেরে ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা আটকে আটকে পড়ছে এবং যা শেষ পর্যন্ত বাজারে একটা নগদের সংকট তৈরি করছে।  ফলে একদিকে নোট বন্দির জেরে বাজারে নগদের সংকট ছিল। মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মত তার উপর চাপল জিএসটি। এই দুইয়ে মিলে এক অভূতপূর্ব নগদ সংকট তৈরি করল দেশের অর্থনীতিতে। এই কথাটা সংকটের কারণ কী সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান খুব স্পষ্ট করে বলেছেন। বাজারে নগদের সঙ্কট দেখা গেলে সবচেয়ে কঠিন যে সমস্যাটি সামনে চলে আসে তা হল চাহিদার অভাব তৈরী। গোটা অর্থনীতি এখন ভুগছে সেই চাহিদা সংকটে। বাজারে কোনও পণ্যের কোনও চাহিদা নেই। চাহিদা সঙ্কটের চিত্রটি সামনে চলে আসে গাড়ির বাজারের সংকট থেকে । রাতারাতি গাড়ি কেনার প্রবণতা কমতে থাকে। বন্ধ হয়ে যেতে থাকে একটার পর একটা গাড়ির শোরুম। কয়েকদিনের মধ্যে সেই ধাক্কাটা গিয়ে লাগে গাড়ি কারখানায়! বাজারে চাহিদা নেই বলে সমস্ত গাড়ি উৎপাদনকারী সংস্থা তাদের উৎপাদন কমাতে শুক করে। কোনও কোনও কোম্পানি উৎপাদন কমায় কর্মী ছাঁটাই করে। কেউ কেউ সপ্তাহে বা মাসের কয়েকটা দিন কারখানা বন্ধ রেখে উত্পাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সবমিলিয়ে বলা হতে থাকে শুধুমাত্র গাড়ি শিল্পে সাড়ে দশ লক্ষ মানুষ কাজ হারাতে চলেছেন। গাড়ি শিল্পের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

 তবে শুধু গাড়ি শিল্পের সংকট দিয়েই বর্তমান পরিস্থিতি কে বিচার করা উচিত হবে না। বস্তুত মোদি সরকারের পাঁচ বছরে অর্থনীতিতে এমন কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই পাঁচি বছরে দেশে কোনও বড় কলকারখানা হয়নি। বরং অসংখ্য কলকারখানা উঠে গিয়েছে। মোদি সরকার কোন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ক্ষেত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে আরও বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কাজ করেছে এই সরকার। মোদী আমলে বেনজিরভাবে রিজার্ভ ব্যাংকের সঞ্ধয়ের উপর হাত দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে বিপদের মুখে রক্ষা করার জন্য রিজার্ভ ব্যাংক তার ভান্ডারে অর্থ সঞ্চয় করে রাখে। মোদি সরকার এমন দেউলিয়া অবস্থায় চলে গিয়েছে যে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে জোরজবরদস্তি সেই টাকাও নিয়ে নিচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাংকের দুই সদ্য প্রাক্তন গভর্নর ব্যাংকের বিপদকালীন তহবিলে হাত দিতে নারাজ ছিলেন। ফলে দু’জনকের চাকরি খোয়াতে হয। দুই অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের মাথায় মোদী নিয়ে আসেন তার এক প্রিয় আমলাকে। এখন আমলাকে রিজার্ভ ব্যাংকের মাথায় বসিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের তহবিল ভাণ্ডার কাজ শুরু করেছে মোদি সরকার। দেশজুড়ে যখন ভয়াবহ মন্দার আতঙ্ক, গোটা দেশে যখন কোনও দেশবাসীর চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে দিয়ে অর্থনীতিকে টাঙ্গা করে তোলা হবে। দফায় দফায় কেন্ত্রীয় অর্থমন্ত্রী এইসব পদক্ষেপগুলোর কথা ঘোষণা করছেন। কিন্তু সেইসব ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন কাটলেও এখনও কোন ফল লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আগামী দিনেও এর কোন ফল ফলবে এমন নিশ্চয়তা নেই। শুধু সরকারি ব্যর্থতাকে আড়াল করে কিছুই মিলবে না। সমস্যার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে না। গোড়াতেই বলেছি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিয়োজিত। অর্থনীতির হাল যদি ফেরাতে হয় তাহলে নজর দিতে হবে এই দুই ক্ষেত্রে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রয়েছেন। কিন্তু মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী যে ঘোষণাগুলি করছেন তা শুধু বড়লোকদের সুবিধা করার দিকে লক্ষ্য রেখে। কীভাবে ব্যবসায়ীরা তাদের মুনাফা সুরক্ষিত রাখতে পারে, কীভাবে বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি তাদের বাজার সুরক্ষিত রাখতে পারে, সেটাই কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় সংস্কার ও পদক্ষেপের মূলে। এইভাবে দেশের অর্থনীতিকে আজ আর বাঁচানো সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে এই অবস্থা থেকে রক্ষা করতে গেলে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এর কাঠামোগত সংস্কার। যে কাঠামোগত সংস্কারের ফলে চাঙ্গা করা যাবে কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে।

 কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার অর্থ এই দুই ক্ষেত্রে পুঁজিকে নিয়ে যেতে হবে। দেশের যে সম্পদ রয়েছে তা এই দুই ক্ষেত্রে বন্টন করতে হবে। এই দুই ক্ষেত্রে যে কোটি কোটি মানুষ কাজ করছেন তাঁদের আয় বৃদ্ধিকে সুনিশ্চিত করতে হবে। আরও মানুষ যাতে এই দুই ক্ষেত্রে কাজ জোগাড় করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশ গত কয়েক বছর ধরে কৃষিতে এক অভূতপূর্ব সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে। আমরা জানি যে কৃষি উৎপাদন ছাড়া কেউ বাঁচতে পারব না। ফসল না ফললে থালায় কারও ভাত আসবে না। অথচ আমরা সবসময় উপেক্ষা করে চলেছি কৃষি উৎপাদনকে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের তরফে যা যা করা দরকার এখন সেই সেই কাজগুলো করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করে দাম পান, সেটাও সুনিশ্চিত করতে হবে। গত পাঁচ বছরে আমরা দেখেছি গোটা দেশে মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের পুলিশ কৃষকদের উপর গুলি চালিয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও, মূলত যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে ন্যূনতম দাম কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কৃষকদের ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিক করার যে সূত্র, সেটাও মানা হয়নি। জমি চাষ করে কৃষকরা তাদের চাষের খরচ তুলতে পারছেন না। হাজার হাজার কৃষক প্রতিবছর আত্মহত্যা করছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যে ক্ষেত্রে যুক্ত সেই ক্ষেত্র যদি এইভাবে রুগ্ন হয়ে থাকে, তা হলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে মুখ ফেরাবে, সেই প্রশ্ন খুব সঙ্গতভাবেই আসে।

 কৃষির সঙ্গে সঙ্গে রুগ্ণ হয়ে পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রও। কার অসংগঠিত ক্ষেত্রের একটি বড় অংশ নির্ভরশীল কৃষি আয়ের উপরে। অসংগঠিত ক্ষেত্রকে আরও রুগ্ন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সবচেয়ে বড় অবদান নোটবন্দি ও জিএসটির। শহরাঞ্চলে ছোটখাট কাজের এখন বড়ই অভাব। একটা সময় আমাদের দেশে নির্মাণশিল্প খুব দ্রুত বিকাশ লাভ করেছিল। সেই নির্মাণশিল্পের ভয়াবহ পরিস্থিতি । বলা হচ্ছে দেশে সাড়ে আট লক্ষ ফ্ল্যাট তৈরি হয় পড়ে রয়েছে। বাজারে ক্রেতা নেই। অসংখ্য আবাসন প্রকল্প অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আবাসন শিল্পকে শুধুমাত্র প্রোমোটারদের কোটি কোটি টাকার মুনাফা বানানোর জায়গা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। আবাসন শিল্পে কর্মী হিসেবে কয়েক কোটি মানুষ যুক্ত। ভাবতে হবে তাদের কথাও। এরাও অসংগঠিত ক্ষেত্রের বিশাল কর্মীবাহিনী। একইভাবে পরিবহন শিল্পে যে কোটি দেখতে হবে। সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে দিয়ে কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত কোটি কোটি মানুষের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়, তাহলেই একমাত্র অর্থনীতিকে একটা বড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে। শুধুমাত্র ব্যাংকের সুদ কমিয়ে বাজারে বাড়ি-গাড়ির ঝণ বিচরণ অবাধ করে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। মানুষ আগে পেটের অন্ন সুনিশ্চিত করে তবে বাড়ি-গাড়ির কথা চিন্তা করবে।

 যেখানে মানুষের জীবিকা অর্জনের নূন্যতম রাস্তাটি সুনিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে শুধু বাড়ি-গাড়ির বাজার চাঙ্গা করেও অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে বাঁচানো যাবে না। যদি কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে মানুষের জীবিকাকে সুনিশ্চিত করা যায়, যদি ওই দুই ক্ষেত্রে মানুষের আয় বাড়ানো সম্ভব হয়, তবেই অর্থনীতির একটা পুনরুজ্জীবন সম্ভব। এই মন্দার ভাব কাটানো যাবে তখনই যখন দেশের কোটি কোটি কোটি মানুষ ভোগ্য পণ্যের চাহিদা করবে। ভোগ্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই শিল্পের পুনর্জন্ম ঘটাতে সক্ষম হবে।  শিল্প পণ্যের চাহিদা বাড়লে তবেই বৃদ্ধির কাঙিক্ষিত হারে পৌঁছানো যাবে। আর্থিক বৃদ্ধির হার গত কয়েক বছর ধরে কমতে থাকার ফলেই অর্থনীতি ঝিমিয়ে পড়েছে। কিন্ত কেন্দ্রীয় সরকার কৃষি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে সম্পদের পুনর্বন্টনের মতো কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে চিন্তা করছে বলে এখনও মনে হচ্ছে না। ফলে মন্দার ভাব কাটানোর পথ আদৌ মিলবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial