অভিজিতের নোবেল জয়ে গর্বিত বাংলা

হিয়া রায়  

অমর্ত্য সেনের পর অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থনীতিতে ফের নোবেল জয় বাঙালির। প্রেসিডেন্সির ছাত্র অভিজিতের এই শিরোপায় বিশ্বমঞ্চে ফের উজ্জ্বল হল বাংলা তথা ভারতবর্ষের মুখ।

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বাঙালি অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী এস্থার ডুফলো। নোবেল পেয়েছেন মাইকেল ক্রেমার। তিন গবেষকের এই সম্মান আন্তর্জাতিক দারিদ্র দূরীকরণে পরীক্ষানির্ভর পদ্ধতির সফল উপস্থাপনারই স্বীকৃতি। অভিজিৎ-এস্থার-ক্রেমার পরিচালিত গবেষণা বিশ্বজুড়ে দারিদ্র দূরীকরণের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের পরীক্ষানির্ভর পদ্ধতি প্রয়োগ করে মাত্র দুই দশকে উন্নয়ন অর্থনীতি রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এই উন্নয়ন অর্থনীতিই হয়ে গিয়েছে গবেষণার এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যেই পুরস্কার দেওয়া হল এই তিন গবেষককে। এস্থার অর্থনীতিতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল প্রাপক।

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল প্রাপ্তিতে উচ্ছসিত গোটা বাংলা। অভিনন্দন বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আরও এক বাঙালি গোটা দেশকে গর্বিত করলেন। অভিনন্দন তাঁর স্ত্রীকে” অভিজিতের নোবেল প্রাপ্তির খবর ঘোষণা হওয়ার সঙ্গেই তার বাড়িতে ফুলের বুকে দিয়ে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। পরে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা-এর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কে বলে বাংলায় প্রতিভা নেই? তাহলে বাঙালি নোবেল পেল কী করে? আগেও তো পেয়েছে। আসলে বাংলা সবার উপরে।” কলকাতায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ আসার পর তাঁকে সম্মান জানানো হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। বিমানবন্দরে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানান অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর মা অর্থনীতির গবেষক নির্মলাদেবীকে যুক্ত করতে চায় সরকার। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের সপ্তপর্ণী আবাসনে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছিলেন। দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের সুবাদে তাঁর খুব চেনা এই আবাসন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলেন অভিজিৎবাবুর মা। সেই সঙ্গে উঠে এল রাজ্যের কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, রূপশ্রী প্রকল্পের কথা। নির্মলাদেবীও অনেকটাই জানেন, খবর রাখেন। বললেন, “তোমরা এত কাজ করছ, সব তো জানাই যায় না।” রাজ্যের মানুষ গর্বিত। তাঁরা বলেছেন, বাংলা তথা বাঙালিদের আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর তিনি যখন কলকাতায় আসবেন, তাঁকে বিশেষ সম্মান জানাতে চায় সরকার। নোবেল পাওয়ার পর একটি দলের দু’একজন নেতার মন্তব্য যে বিতর্ক বাড়িয়েছেন তা বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী। তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা বাংলার সংস্কৃতি উচ্ছেদ করে অন্য কিছু চাপাতে চায় তখন খারাপ লাগে। সারা দেশে বাংলার ছেলেরা আছে। আমেরিকায় সব ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। অনেকে হিংসায় অনেক কথা বলেন। বাংলা কিন্তু এমন নয়। হিংসা মানুষকে লজ্জিত করে। ভালবাসা মানুষকে অনেক বড় করে। আমি আগামিদিনে দেখতে চাই বাংলার ছেলেরা যেন সর্বত্র জয়ী হয়। আমরা পারব।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial